বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন
ঘোষণাঃ
বহুল প্রচারিত বঙ্গবাজার পত্রিকায় আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে আজই যোগাযোগ করুন,এছাড়াও আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা, দুর্ঘটনা, দুর্নীতি, ভালো খবর, জন্মদিনের শুভেচ্ছা, নির্বাচনি প্রচারণা, হারানো সংবাদ, প্রাপ্তি সংবাদ, সংর্বধনা, আপনার সন্তানের লেখা কবিতা, ছড়া,গান প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। ❤️দেশ সেরা পত্রিকা হতে পারে আপনার সহযাত্রী ❤️

এক আল্লাহর পথে দাওয়াত

  • বঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ প্রকাশিত শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২
  • ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

নুরুল আলম তৌহিদী
খতিব,ঐতিহাসিক ছুঁটি খাঁ জামে মসজিদ,
ইসলামিক চিন্তাবিদ ও ধর্ম বিশারদ
দাওয়াত আরবী শব্দ ৷এর অর্থ আহবান করা, ডাকা,
আমন্ত্রণ ইত্যাদি ৷শরয়ী পরিভাষায় ইহকালীন কল্যান ও পরকালীন মুক্তির জন্যে মানব জাতিকে ইসলামী জীবন বিধানের দিকে আহবান করা ও ডাকাকে দাওয়াত ইলাল্লাহ বলে ৷যুগে যুগে পথহারা মানবকে সঠিক দিশা দিতে স্বয়ং আল্লাহ নবী রাসুল প্রেরণ ও কিতাব নাজিল করেন ৷তাঁরা সকলেই এই দাওয়াত দান করেন ৷আসলে প্রত্যেক নবী রাসুলই ছিলেন দায়ী ইলাল্লাহ বা আল্লাহর পথের আহবান কারী ৷মহান আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং মুহাম্মাদ সঃ কে দায়ী ইলাল্লাহ নাম দিয়েছেন ৷সকল নবী রাসুলের সুন্নত বিশেষ করে মুহাম্মদ সঃ এর সুন্নাত এই দাওয়াতি কাজ ৷ পৃথিবীতে নবী যেহেতু আর আসবেনা মুহাম্মদ সঃ এর মাধ্যমে নবুয়তের ধারা শেষ
হয়ে গেছে সেহেতু বর্তমানে একাজের দায়িত্ব সকল আলেম ও উম্মতে মুহাম্মদীর উপর বর্তেছে ৷

আল্লাহর পথে দাওয়াত কি?

১)আল্লাহর দেয়া পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান ইসলামের দিকে
আহবান করা ৷
২)দাওয়াতের প্রাণ হলো তাওহীদ তাই এক আল্লাহর জাত ও সিফাত অনুযায়ী তাঁর দিকে ডাকা ৷
৩)নবী রাসুলের রেসালাতের দিকে ডাকা ৷
৪)মৃত্যুর পরের অশেষ জীবন কেন্দ্রীক আহবান ৷
৫)গ্রহনীয়-বর্জনীয় স্বীকার ও অস্বীকারের দিকে ডাকা
৬)আল্লাহর রাসুলের দিকে ডাকা ৷তাঁর উপর অবতীর্ণ
ফুরকানের দিকে ডাকা ৷
৭)খতমে নবুয়তের দিকে আহবান করা ৷এই কথার দাওয়াত দেয়া যে মুহাম্মদ সঃ এর মাধ্যমে ইসলাম পূর্ণতা লাভ করেছে ৷
৮)সত্যের সাক্ষ্য দিতে আহবান করা
৯)ইসলামের সুশীতল ছায়ার দিকে আহবান করা ৷একটি সুখি সমৃদ্ধ ইনসাফ ভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের দিকে আহবান করা,যেরকম সমাজ বিশ্ব নবী সঃ কায়েম করেছিলেন ৷
১০)এক কথায় আল্লাহর দেয়া কুরআন ও বিশ্ব নবীর সুন্নাহর পথে ডাকা ৷বিশেষ করে সুরা হজ্বের ৪১ নং আয়াতে আল্লাহর দেয়া ৪ দফা কর্মসুচী মতো রাষ্ট্র ব্যবস্হার দিকে আহবান করাই এক আল্লাহর পথে দাওয়াত  বলা যায় ৷

আজ কোন পথে ডাকছে মানুষ ?

একজন মুসলিম আল্লাহর দেয়া পথ ও রাসুলের সুন্নাহর মতের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই ৷অথচ বর্তমানে মুসলিম সন্তানেরাই ইসলামী জীবন ব্যবস্হাকে পূর্ণাঙ্গ না মেনে মানুষের তৈরী করা নানা মতবাদের প্রচার প্রসার ও প্রতিষ্ঠার কাজে ব্যস্ত রয়েছে ৷অথচ আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত জীবন বিধান কেবল ইসলাম ৷

দ্বীনের দাওয়াত প্রদান ও গ্রহণ দুটিই কঠিনঃ
ইসলামের পথে আহবান এবং এই দাওয়াতে সাড়া প্রদান দুটিই কঠিন ৷ যুগে যুগে নবী ও তাদের অনুসারীদের জীবন সংগ্রাম পর্যালোচনা করলে সেটি
স্পষ্ট হয়ে যাবে ৷নবী মূসা আঃ,নূহ আঃ ,ইব্রাহীম আঃ
এবং প্রিয় নবী সঃ ও তাঁর অনুসারীদের জীবনের কষ্ট ও ত্যাগ দাওয়াতি কারণেই ৷অনেক মাসুম নবীকে হত্যাও করা হয় দাওয়াতি কারণেই ৷দ্বীনে হকের দাওয়াতের বড় দুশমন হলো তাগুতি শক্তি ৷ আফসুস আজ না বোঝার কারণে বর্তমানে সেই তাগুতি মতবাদের পেচনেই ছুটে চলেছে বোকা মুসলমানের দল ৷ অথচ এই তাগুতি শক্তি সেই নবী ও রাসুলের যুগ হতে আজ পর্যন্ত মুসলমানদের রক্তে সিক্ত করছে জমীন ৷সুতরাং ইসলাম ছাড়া সকল তন্ত্র, মন্ত্র, মতবাদ গ্রহণ ও ওইসব মতবাদের দলীয় কর্মী হওয়া,ওই সকল পথে আহবান করা, কোন মুসলিমের জন্য বৈধ হতেই পারেনা ৷

এক আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রসঙ্গে কুরআনঃ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহর পথে আহবান করার একটি দলের বাধ্যতামূলক প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ রয়েছে এছাড়াও দাওয়াত কোন পথে দেবে ,কিভাবে দাওয়াত দেবে ,কাকে দেবে,দাওয়াত দাতাদের মর্যাদা, নবীদের দাওয়াতি জীবনের কষ্ট ও ধরণ,দাওয়াতের বিষয় কি হবে,দাওয়াত গ্রহণ না করে দায়ীদের উপর জুলুমের কারণে গজব নাজিল,দাওয়াতী কর্ম কৌশল ও সে কাজে সবর করা দাওয়াত প্রাপ্তদের সংগঠিত করা ও তাদের নিয়ে আকামাতে দ্বীনের কাজ চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে পবিত্র কুরআনে পাকে বিস্তারীত উল্লেখ রয়েছে ৷এজন্য লক্ষ করুন—নহল -১২৫,হামীম সেজদাহ-৩৩,ইউসুফ-১০৮,মায়িদা-৬৭,
আহযাব-৪৫ ও ৪৬, মুমিনুন -৫২,শূরা-১৩,হজ্ব-৭৮, আরাফ-৫৯,আরাফ-৬৫,আরাফ-৫৯,
আরাফ-৮৫,ইবরাহীম-৫,নূহ-৫ ও ৬,আরাফ-৭৩,
সহ অন্যান্য আয়াত গুলো ৷

দাওয়াতি কাজ সম্পর্কে হাদীসঃ
১)আনাস রাঃ হতে বর্ণিত রাসুল সঃ বলেন সহজ করো,কঠিন করোনা ,সুসংবাদ দাও বীতশ্রদ্ধ করোনা৷
(বুখারী১ম খন্ড)
২)আনাস রাঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল সঃ যখন কোন কথা বলতেন তখন তিনি তিনবার করে কলতেন ৷
যেন মানুষ তা ভালো করে বুঝতে পারে ৷বোখারী)
৩)আনাস রাঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল সঃ বলেছেন মিরাজের রাতে আমি দেখতে পেলাম কিছু লোকের ঠোঁট গুনের কাচি দিয়ে কাটা হচ্ছে ৷আমি জিব্রাইল আঃ কে জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? তিনি বললেন এরা হলো আপনার উম্মতের দ্বীনের প্রচারক মুবাল্লিগ বক্তাগণ যারা অপরকে নেক কাজের নসিহত করতো কিন্তু নিজেরা তা আমল করতনা ৷(মিশকাত)
৪)মুয়াবিয়া রাঃ বলেছেন,আমি রাসুল সঃ কে বলতে
শুনেছি ;আমার উম্মতের মধ্যে সর্বদা এমন একদল লোক থাকবে যারা হবে আল্লাহর হুকুমের বাহক  তাঁর দ্বীনের রক্ষক ৷যে সমস্ত লোক তাদের মত পোষণ করবেনা কিংবা তাদের বিরোধিতা করবে বিরোধিরা তাদের ধংস করতে বা ক্ষতি করতে পারবেনা ৷অবশেষে
আল্লাহর ফয়সালা এসে যাবে ৷আর এই দ্বীনের রক্ষকেরা এই অবস্হার উপর দৃঢ়ভাবে কায়েম থাকবে ৷
(বোখারী ও মুসলিম )

শেষ কথাঃ

আসুন আমরা কুরআন সুন্নাহ বর্ণিত পথে দায়ী ইলাল্লাহ হওয়ার চেষ্টা করি ৷এপথে কোনই ব্যর্থতা নেই ৷কেননা এটি নবীরাসুল আঃ ও সাহাবায়ে কেরামের আমল ৷ একটি সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে একাজের বিকল্প নেই ৷আর মনে রাখতে হবে যে কুরআনের পথের আহবানকারীরাই  সঠিক দায়ী ইলাল্লাহ ৷

এই ধরনের আরও খবর

Advertising

আর্কাইভ

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে

জেলা প্রতিনিধি হতে যোগাযোগ করুন

সপ্তাহের সেরা ছবি

© All rights reserved © 2022 bongobazarpatrika.com
Theme Download From ThemesBazar.Com