বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
ঘোষণাঃ
বহুল প্রচারিত বঙ্গবাজার পত্রিকায় আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে আজই যোগাযোগ করুন,এছাড়াও আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা, দুর্ঘটনা, দুর্নীতি, ভালো খবর, জন্মদিনের শুভেচ্ছা, নির্বাচনি প্রচারণা, হারানো সংবাদ, প্রাপ্তি সংবাদ, সংর্বধনা, আপনার সন্তানের লেখা কবিতা, ছড়া,গান প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। ❤️দেশ সেরা পত্রিকা হতে পারে আপনার সহযাত্রী ❤️

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ও বরেণ্য গীতিকবি এবং পাবনার কৃতীসন্তান গৌরী প্রসন্ন মজুমদার

  • বঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ প্রকাশিত বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২
  • ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ও বরেণ্য গীতিকবি গৌরী প্রসন্ন মজুমদার ১৯২৫ সালের ০৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতামহ শ্রীশচন্দ্র মজুমদার ছিলেন ফরিদপুর উপজেলার অন্যতম জমিদার।পিতা গিরিজা প্রসন্ন মজুমদার ছিলেন প্রখ্যাত উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ও মাতা সুধাদেবী মজুমদার।

পিতার চাকরির সুবাদে গৌরী প্রসন্ন মজুমদার কলকাতার বালিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করে আশুতোষ কলেজে আইএসসি প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাবনায় ফিরে আসেন এবং এডওয়ার্ড কলেজে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। সেসময় এডওয়ার্ড কলেজে পড়তেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক অপরেশ লাহিড়ি। অপরেশ লাহিড়ি ছিলেন বাঁশরী লাহিড়ির স্বামী ও বাপ্পী লাহিড়ির বাবা। ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার পর তিনি পুনরায় কলকাতায় ফিরে যান। ১৯৫১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পাস করেন। এরপর বিশ বছর পরে ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাভাষা ও সাহিত্যে এমএ পাস করেন।

গৌরী প্রসন্ন মজুমদার চলচ্চিত্র ও বেসিক ডিস্কের গানের প্রখ্যাত সুরকার, গায়ক সংগীত পরিচালক অনুপম ঘটক ও শচীনের কাছে সংগীতের ওপর বিশেষ শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে একেকটি গানের জন্য পেতেন কমপক্ষে ষোলোশো রুপি।

গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের উল্লেখযোগ্য বাংলা গান : ভুল সবই ভুল, যেতে দাও আমায় ডেকোনা, প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে, তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা ঝড়, ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস, কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে, এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি, এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে, এখনো আকাশে ওই চাঁদ জেগে আছে, আমি দূর হতে তোমারে দেখেছি, আড় বাঁশি শুনে কাজ নেই, আজ দু’জনার দুটি পথ ওগো গেছে বেঁকে।

একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের অবদান চিরস্মরণীয়। সেসময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পাশে তিনি সব সময় থাকতেন। তাঁদের সুবিধা -অসুবিধার খোঁজ নিতেন।তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অসংখ্য গান লিখেছেন।”শোন একটি মজিবরে থেকে; লক্ষ মজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি; আকাশে বাতাসে ওঠে রণি; বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ” তাঁর উল্লেখযোগ্য ও খুবই জনপ্রিয় এ গানটি বাংলার মানুষের মনে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি ও উন্মাদনা এনে দিয়েছিল। এ গানটি ইংরেজিতে অনুবাদও তিনিই করেছিলেন। এটি বেরোয় ডিস্ক রেকর্ডে। গানটি গেয়েছিলেন অংশুমান রায়। গানটি ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগর অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে বাজানো হয়।

১৯৭২ সালে তিনি নিজ জন্মভূমি পাবনা এসেছিলেন।বক্তব্য রেখেছিলেন অন্নদাগোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি, শহীদ সাধন সংগীত মহাবিদ্যালয়, এডওয়ার্ড কলেজ ও শহীদ আমিন উদ্দিন আইন কলেজে।বনমালী ইনস্টিটিউশনে তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।সেদিন তাঁর এ অনুষ্ঠানগুলোতে অন্তরঙ্গ শুভানুধ্যায়ী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনার আর এক কৃতিসন্তান ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের স্ত্রী ছিলেন উচ্চশিক্ষিতা। তাঁদের কোনও সন্তান ছিল না।ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন খুবই কৌতুহলপ্রিয়।তিনি নানা জাতের, নানা ব্রান্ভের, নানা মডেলের হাতঘড়ি সংগ্রহ করে জমিয়ে রাখতেন। চাইনিজ রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে ভালোবাসতেন। নিজের গাড়ি থাকলেও তিনি প্রায় সময় পায়ে হেঁটে অথবা বাসে-ট্রামে-অটোতে চড়ে ঘুরতে ভালোবাসতেন।কখনো ফুলশার্ট ও পায়জামা, কখনো পাঞ্জাবি ও পায়জামা। পায়ে চপ্পল। এই ছিল তাঁর প্রিয় বসনভূষণ।পায়জামা পরতেন গোড়ালির উপর।ছয় ফুটের বেশি দীর্ঘ গৌরী প্রসন্ন মজুমদার হাঁটার সময় ঘাড় বামদিকে কাত করে রাখতেন।

১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট গৌরী প্রসন্ন মজুমদার দেহত্যাগ করেন।

লেখকঃ মহিউদ্দিন ভূইয়া, সম্পাদক।

এই ধরনের আরও খবর

Advertising

আর্কাইভ

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে

জেলা প্রতিনিধি হতে যোগাযোগ করুন

সপ্তাহের সেরা ছবি

© All rights reserved © 2022 bongobazarpatrika.com
Theme Download From ThemesBazar.Com