শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ঘোষণাঃ
বহুল প্রচারিত বঙ্গবাজার পত্রিকায় আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে আজই যোগাযোগ করুন,এছাড়াও আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা, দুর্ঘটনা, দুর্নীতি, ভালো খবর, জন্মদিনের শুভেচ্ছা, নির্বাচনি প্রচারণা, হারানো সংবাদ, প্রাপ্তি সংবাদ, সংর্বধনা, আপনার সন্তানের লেখা কবিতা, ছড়া,গান প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। ❤️দেশ সেরা পত্রিকা হতে পারে আপনার সহযাত্রী ❤️

ফকির আলমগীরের শুভ জন্মদিন আজ

  • বঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ প্রকাশিত বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

বাবলু ভট্রাচার্যঃ মানব মুক্তির গান মানেই তাঁর কাছে ছিল গণসংগীত। ‘৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান, ‘৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও ‘৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী গণ আন্দোলনে তিনি সামিল হয়েছিলেন তাঁর গান দিয়ে।

মার্ক্স থেকে মাইজবান্ডারি, লেনিন থেকে লালন- বিষয়-ভিত্তিক গানেও বেশ সরব ছিলেন তিনি।

তিনি গণ-মানুষের শিল্পী ফকির আলমগীর।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ফকির আলমগীর জড়িয়ে যান বাম ধারার ছাত্র রাজনীতিতে। সেই সূত্রে ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে তাঁর গান আর সংগ্রামের জগতে প্রবেশ।

ঠিক তার পরপরই এলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সেই উত্তাল সময়। গানের শিল্পী ফকির আলমগীর তাতেও কণ্ঠ মেলালেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যোগ দিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।

ফকির আলমগীরের গণমানুষের শিল্পী হয়ে ওঠার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল যে গানের চরিত্র, তার নাম ‘সখিনা’। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ঈদের আনন্দমেলায় ‘ও সখিনা গেছস কিনা ভুইলা আমারে’ গানটি প্রচারের পর দর্শকদের মাঝে সাড়া পড়ে যায়।

পরে আশির দশকের শেষভাগে তিনি নিজেই লেখেন ‘চল সখিনা দুবাই যাব, দ্যাশে বড় দুখরে’। তাঁর কণ্ঠের সেই গানটিও বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

নব্বইয়ে সামরিক শাসনবিরোধী গণ-আন্দোলনে প্রতিবাদী গানে ফকির আলমগীরের সরব উপস্থিতি তাঁকে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তার নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়। তবে তার আগেই মা-কে নিয়ে লেখা তার আরেকটি গান মানুষের মুখে মুখে ফিরত। ‘মায়ের একধার দুধের দাম’ গানটি সিনেমাতেও ব্যবহৃত হয়েছিল।

‘মন আমার দেহ ঘড়ি’, ‘আহারে কাল্লু মাতব্বর’, ‘ও জুলেখা’, ‘ঘর করলাম না রে আমি’, ‘সান্তাহার জংশনে দেখা’,  ‘বনমালী তুমি’সহ তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান আশি ও নব্বইয়ের দশকে দারুণ জনপ্রিয় ছিল।

১৯৯৭ সালের মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নেলসন ম্যান্ডেলা যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন, সে সময় তাঁকে নিয়ে লেখা সেই ‘কালো কালো মানুষের দেশে’ গানটি শুনিয়েছিলেন ফকির আলমগীর।

ফকির আলমগীর সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’ প্রতিষ্ঠাতা। গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীত শিল্পী পরিষদের সভাপতি এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোটের সহ-সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।

গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এই শিল্পী। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তাঁর।

বাংলাদেশের গণসংগীতে অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক প্রদান করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। এছাড়াও তিনি বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

২৩ জুলাই ২০২১ সালে ৭১ বছর বয়সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ফকির আলমগীর মৃত্যুবরণ করেন।

ফকির আলমগীর ১৯৫০ সালের আজকের দিনে (২১ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুর জেলার ভাঙা থানার কালামৃধা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

এই ধরনের আরও খবর

Advertising

আর্কাইভ

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে

জেলা প্রতিনিধি হতে যোগাযোগ করুন

সপ্তাহের সেরা ছবি

© All rights reserved © 2022 bongobazarpatrika.com
Theme Download From ThemesBazar.Com