রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কোটা আন্দোলন: নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সরকারের নির্দেশনায় আন্দোলন দমনের চেষ্টা চলছে আইনমন্ত্রী কোটা সংস্কারের ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত সরকার ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধ সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট বিড়ম্বনা রামপুরায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ, টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ মহাখালীতে রেলপথ অবরোধ, ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ নোবিপ্রবির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা, হল না ছাড়তে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ঢাকা কলেজের সামনে পড়ে থাকা মরদেহ ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ সবুজের সিটি এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা
ঘোষণাঃ
বহুল প্রচারিত বঙ্গবাজার পত্রিকায় আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে আজই যোগাযোগ করুন,এছাড়াও আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা, দুর্ঘটনা, দুর্নীতি, ভালো খবর, জন্মদিনের শুভেচ্ছা, নির্বাচনি প্রচারণা, হারানো সংবাদ, প্রাপ্তি সংবাদ, সংর্বধনা, আপনার সন্তানের লেখা কবিতা, ছড়া,গান প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন। ❤️দেশ সেরা পত্রিকা হতে পারে আপনার সহযাত্রী ❤️

ইতালির ভুয়া ভিসা দিয়ে কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা প্রতারক চক্র

  • বঙ্গ নিউজ ডেস্কঃ প্রকাশিত শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকাঃ পাসপোর্ট নিয়ে দেয়া হয় ইতালির ভিসা, এমন কি বিমানের টিকিটও অগ্রিম কাটা হয়। কিন্তু ইমিগ্রেশনে গিয়ে যুবকরা জানতে পারেন সবই ভুয়া। দালালদের প্রলোভনে পড়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়ে সর্বস্বান্ত মাদারীপুরের অনেক যুবক।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, লোভে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ। আর সচেতনতার অভাবেই এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে দাবি প্রশাসনের।

ইভান খালাসী তিনি দেড় বছর আগেও ছিলেন সৌদি আরব। মুঠোফোনে কথা হয় মাদারীপুরের রাজৈরের হরিদাসদি এলাকার বেলায়েত হাওলাদারের সঙ্গে। পরে সৌদি থেকে দেশে আসেন ইভান। কোন ঝামেলা ছাড়াই তাকে ইতালি পৌঁছে দেয়া হবে এমন শর্তে দালালদের হাতে তুলে দেন ১২ লাখ টাকা। এজন্য পাসপোর্টে দেয়া হয় ইতালির ভিসা, একই সঙ্গে টিকিটও কাটা হয় বিমানের। কিন্তু গত ৩ এপ্রিল ইতালির উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গিয়ে জানতে পারেন প্রতারণার শিকার তিনি।

শুধু ইভান খালাসীই নয়, তার মতো একইভাবে প্রতারণার শিকার পাঠানকান্দির নাইম হাওলাদার, হরিদাসদির সফিকুল ইসলাম নয়ন, রায়হান হোসেনসহ অনেক যুবক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত নোয়াখালীর কবিরহাট এলাকার আবুল বাশার সুমন ও তার সহযোগী বেলায়েত হাওলাদার। প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা অভিযুক্তরা।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, লোভে পড়েই বার বার প্রতারিত হচ্ছে যুবকরা। এ বিষয়ে জানতে বেলায়েতের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, অভিযোগের কিছুই জানেন না বলে দাবি অভিযুক্ত বেলায়েতের বাবা মোতালেব হাওলাদারের। প্রশাসন বলছে, এমন ঘটনা থামাতে জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতার পাশাপাশি প্রয়োজন পরিবারেরও সচেতনতা বৃদ্ধি।

টাকা লেনদেনের একটি ভিডিও এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, বেলায়েতের শাশুড়ি আসমিনা বেগম গুনে গুনে লাখ লাখ টাকা নিচ্ছেন। সেই টাকা বেলায়েতকে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইভান খালাসীর বাড়িতে বসেই এই লাখ লাখ টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ইভান খালাসী বলেন, আমাকে ইতালি পাঠাবে এই প্রলোভনে পড়ে আমি প্রতারিত হই। আগে বুঝতে পারিনি, তাহলে এই ফাঁদে পা দিতাম না। আমার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়েছে বেলায়েত ও তার শাশুড়ি, আমি আমার টাকা ফেরত চাই, আর এই দালালচক্রের বিচার চাই।

আরেক ভুক্তভোগী রায়হান হোসেন দুলাভাই মাদারীপুরের রাজৈরের বদরপাশার দারাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, বেলায়েত ও সুমনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে অনেক যুবক সর্বস্বান্ত হয়েছে। কেউ সুদে টাকা এনে, কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ এনে লাখ লাখ টাকা হাতে তুলে দিয়েছে এই প্রতারকদের। এখন ইতালিও নিতে পারছে না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। এর একটা প্রতিকার দরকার। এই দালালদের বিচারও হওয়া দরকার। প্রশাসনের কাছে জোরদাবি, এই চক্রকে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

অভিযুক্ত বেলায়েত হাওলাদারের বাবা মোতালেব হাওলাদার বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে দুই বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। বেলায়েত কাকে কিভাবে কোথায় নিবে, সেটা আমি জানি না।

বেলায়েতের শাশুড়ি আসমিনা বেগম বলেন, আমার জামাই বেলায়েত টাকা নিতে বলেছে, আমি সেই টাকা ইভানদের বাড়িতে গিয়ে গ্রহণ করেছি। ইভান আমাদের আত্মীয় হয়। টাকা নিয়ে ইতালি নেয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমার জামাই অন্য এক লোকের মাধ্যমে কথা বলেছিল, মূলত সেই লোকই প্রতারণা করেছে। এই ঘটনায় ইভান আদালতে মামলা করেছে, এখন আমরা আদালতেই সবকিছুই বুঝবো।

মাদারীপুর আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মামুন খান বলেন, লোভে পড়েই যুবকরা বার বার প্রতারণার শিকার হচ্ছে। পরে বিচারের আশায় আদালতে মামরা করেন। যুবকরা যদি দালালদের কাছে না যায়, তাহলে এই প্রতারিত হবার কোনো সুযোগ নেই।মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনায় মাদারীপুর আদালতে দায়ের করা একাধিক মামলা তদন্ত করছে গোপালগঞ্জ জেলার পিবিআই কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রত্যেকটি মামলা মাদারীপুর জেলা পুলিশ নিখুঁতভাবে তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অনেকেই গ্রেপ্তারও হয়েছে। বেকার যুবকরা সচেতন হলে এই প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। সচেতনতার বাইরে বিকল্প কিছুই নেই।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, বেকার যুবকদের মধ্যে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার একটি স্বপ্ন থেকেই বার বার প্রতারিত হচ্ছে তারা। অল্প টাকায় ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের যাওয়ার প্রবণতায় একদিকে প্রাণহানি বাড়ছে, অন্যদিকে দালালদের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেকেই। এর থেকে বাঁচতে প্রয়োজন পরিবার ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

এই ধরনের আরও খবর

Advertising

আর্কাইভ

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন এখানে

জেলা প্রতিনিধি হতে যোগাযোগ করুন

সপ্তাহের সেরা ছবি

© All rights reserved © 2022 bongobazarpatrika.com
Theme Download From ThemesBazar.Com